Skip to main content

শ্যামা সুন্দরী চতুর্থ পর্ব কলমে মুক্তারুল ইসলাম মুক্তার

 শ্যামা সুন্দরী 

              চতুর্থ পর্ব 

কলমে মুক্তারুল ইসলাম মুক্তার 

2021.11.04

8:49pm


নিত্যি নিত্যি উদয়রে সূর্য, ঐ না পশ্চিম আকাশে;
আজ কেন উদয়রে সূর্য, ঐ না  নদীর কুলে;
প্রাণ জুড়াইছে তোমায় দেইখারে। "

শ্যামা সুন্দরী চতুর্থ পর্ব কলমে মুক্তারুল ইসলাম মুক্তার


আখি তার খুব কাছের দুই বান্ধবীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়াছে বন্যার পানি দেখার জন্য। আখির পড়নে কালো জামার ওপড়ে কোটি পড়ানো। হালকা সাজ গোছে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল। ওরা তিন বান্ধুবী রাস্তা দিয়ে হাটছিল, পথিমধ্যে ওদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। আমাকে দেখেই সে ফ্যাল ফ্যাল করে হেসে দিল। আর মনে মনে কিছু একটা বলছিল। ততক্ষণে আমার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। সে একটু ছোট করে, মিষ্টি সুরে বললো আই লাভ ইউ। আহ! এই ছোট কথাটি শোনার পর আমার যেন কেমন লেগেছিল তা বলে বোঝানোর ভাষা আমার জানা নাই। এই কথা তার মুখ থেকে শুনার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। আখির বান্ধবি গুলো অনেক ভালো। তারা তেমন কিছু জিজ্ঞাসা না করে, শুধু জানতে চাইল আমার নাম কি? আমি বলে দিলাম যে, আমার নাম মুক্তার। তার পর ওদের সাথে পরিচয় হলাম, নাম জানলাম, কে কি করে অর্থাৎ সব জানলাম। তাদের সাথে কথা বলে আমার খুব ভালো লাগলো।

এসব শুনেই আমি পানির মধ্য দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলাম, এমন সময় আখি বলল, কি হলো? সোনার ছেলে কিছু বলে যাও।

 

" কি বলিব গো শ্যামা সুন্দরী, ও ভাষা জানা নাই মোর।
মনের ভাষা বুঝনা কি তুমি, কথা বলা যে মানা।
আশে পাশে আছে লোকজন, সেটা কি দেখনা। 


আখি ছিল আমার মতো ভালবাসার কাঙ্গালী, তাই সে কিছুতেই আমার যাওয়া মানতে পারছে না। সেইজন্য সে বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে এতো মানুষের মাঝে। আর ও তো পিচ্ছি একটা মেয়ে তেমন কাছু বোঝে না। ওর কাছে প্রেম, ভালবাসা ছাড়া আর কিছুই নেই। 


" দেখেছি তবু, মন মানে না ।
তোমাকে দেখার পর কিছু বুঝিনা,
লাগে না কোন কিছু ভালো আমার।।
          যেথায় তুমি যাও,
সেথায় আমায় সঙ্গে করে নিয়ে যাও।।"


আখি আমার সাথে আমার বাড়িতে আসতে চাই। আমাকে ছাড়া ও যেন আর একটা মহুর্ত কাটাতে চাই না। আমার ও যেন তাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পারছি না শুধুমাত্র এই সমাজের জন্য। এভাবেই চলছে আমাদের দুজনার সম্পর্ক। কেটে যায় দিনের পর দিন।

যতই দিন যায় ততই যেন আমার তার প্রতি একটা টান বেড়ে যায়। সেই ছোট, পিচ্ছি মেয়ে আখি আজ অনেক বড় হয়েছে। সে মাধ্যমিক পাশ করেছে। ও এখন স্কুল থেকে কলেজে যাচ্ছে। আখির বাবার মুখ থেকে শুনেছি যে, সে শহরের সবচেয়ে বড় নামী দামী কলেজে চান্স পেয়েছে। সেখানে শুধু বড় লোকের ছেলে মেয়েরা পড়ে। আখিও সেই কলেজে ভর্তি হয়েছে। আখি পড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাবে।

Follow us Facebook Muktarul Islam Muktar Sorkar 

Comments

Popular posts from this blog

আর কতবার বললে সখি ভালবাসবি মোরে।

 আর কতবার বললে সখি ভালোবাসবি মোরে,  আর কতবার প্রার্থনা করলে সখি পাবো তোরে।  কোন কবিরাজের তাবিজ নিলে সখি তুই হবি আমার।  কোন মন্ত্র পাঠ করলে সখি পাবো আমি তোরে।  জানলে সখি বলিস আমারে, তোর জন্য  করতে পারি সব।  তোর জন্য জীবন বাজি রাখতে সখি আমি রাজি,  তবুও যেন তোরে পাই, না যেন পাই তোরে অন্যজন। আমি যে দিকেই তাকাই সখি সেই দিকেই যে তোরে দেখতে পাই,  আকাশে - পাতালে তোর ছায়া সদয় ভাসে মোর মনে। 15.12.24 4.14pm

এক ব্যশ্যার প্রেমে পড়েছিলাম

 এক ব্যশ্যার প্রেমে পড়েছিলাম, মন দেখে নয় দেহ দেখে। ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ব্যশ্যা এক পুরুষে নয় সন্তুষ্ট। তাই তো তাকে ছেড়ে দিয়েছি পরিত্যক্ত নগরে, যেখানে নিত্য আসে, বাহারি রঙের পুরুষ। ছিল ব্যশ্যা একাকিত্ব, তাই দিয়েছিলাম তার সঙ্গ। একাকিত্ব জীবনে ব্যশ্যাকে করেছিলাম আপন, ব্যশ্যার মনে ছিল না ভালোবাসা,  ছিল শুধু ভোগের পিপাসা। আজ সেই ব্যশ্যার জন্য,  হাজারো পুরুষ হারিয়েছে তাদের পুরুষত্ব। 8.1.24 9.21pm

কলম্বাসের নির্মমতার প্রতিকী বিচার শুরু

নাবিক কলম্বাসের কথা সকলেই জানে। ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকেনা! ইতিহাস বড়ই নির্মম ------ কলম্বাসের নির্মমতার প্রতিকী বিচার শুরু: -------------------------------- ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তিনটি জাহাজে চড়ে আমেরিকার বাহামাস দ্বীপে পৌঁছান । সরলমনা স্থানীয় আদিবাসীরা তাদেরকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানান। কলম্বাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামতও করে দেন তারা। অভ্যর্থনা জানাতে আসা আদিবাসীদের দেহে স্বর্ণের অলঙ্কার দেখে কলম্বাস অনুমান করেন আশেপাশের কোথাও স্বর্ণের খনি রয়েছে। আদিবাসীদের সরলতা কলম্বাসকে মুগ্ধ করে এ জন্য যে, তিনি খুবই কম পরিশ্রমে ওই ভূখণ্ডের সব কিছু নিজের দখলে নিতে পারবেন। তিনি আমেরিকার মূল মালিক আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করেন এবং স্পেনে গিয়ে আরও এক হাজার দুইশ’ ইউরোপীয়কে সঙ্গে নিয়ে আসেন। শুরু হয় নির্মমতা, চলে গণহত্যা।  কলম্বাস বাহিনী হিস্পানিওলা দ্বীপের একটি প্রদেশে ১৪ বছরের উপরের সব আদিবাসীকে তিন মাস পরপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশ মানতে যা...